লাইফ স্টাইল

কুষ্টিয়ায় নবম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারী কর্মচারীরা কর্মবিরতি

কুষ্টিয়ায় নবম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে জেলার সরকারী কর্মচারীরা তৃতীয় দিনের মত দুই ঘন্টার কর্মবিরতী পালন করছেন। গতকাল সোমবার সকাল ৯টায় সকল সরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘটে যোগ দিয়েছেন। এসময় বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে কর্মচারীরা। পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবীতে কর্মচারীরা বিভিন্ন শ্লোগানে মুখোরিত করে তোলে কালেক্টরেট চত্বর। বাংলাদেশ সরকারী কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এই কর্মবিরতিতে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সভাপতি শরাফত হোসেন। বক্তব্য রাখেন সাধারন সম্পাদক আবুবক্কর সিদ্দিক, ফজলুর রহমান, মখলেসুর রহমান, আনোয়ার হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, সোলায়মান কবির, আহসারুর রহমান প্রমুখ।

কর্মচারী নেতৃবৃন্দ বক্তব্যে বলেন, নবম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ন, ১:৪ অনুপাতে ১২ গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো নির্ধারণ এবং সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দ্রুত গেজেট প্রকাশ করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীরা বেতন ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা। বক্তারা আরো বলেন, দুর্মুল্যের বাজারে কর্মচারীদের বেতন দিয়ে সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ, বাড়িভাড়াসহ সব কিছুতেই ব্যয়ভার মেটাতে কর্মচারীদের দুর্বিসহ জীবন যাপন করা হচ্ছে। দ্রুত সরকারী কর্মচারীদের পে-স্কেল ঘোষনার বাস্তবায়ন না হলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার হুমকি দেয়া হয়।

বক্তারা আরো বলেন, বক্তারা বলেন, দেশের সকল সরকারী অফিসের কর্মচারীরা দীর্ঘ দিন থেকে বঞ্চিত এবং শোষিত। অথচ দেশের সকল ক্ষেত্রে সফলতার মূলে রয়েছে কর্মচারীরা। তারা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সরকারের সকল পলিসি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে অথচ কর্মচারীদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে গাফিলতি দেখা যাচ্ছে। বক্তারা বলেন, দ্রুত পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করেছিলাম কিন্তু সরকারের নিরবতা এবং নিশ্চুপ আচরনে আমরা অবাক হলাম। আশা করি সরকারের বোধগম্য হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছে কর্মচারীদের দীর্ঘ দিনের দাবীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। বক্তারা বলেন, সরকারি চাকরিজীবিদের বেতন ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে সুপারিশ করেছিল জাতীয় বেতন কমিশন। সেখানে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড, সব স্তরেই বেতন বাড়ানোর সুপারিশ দেয়া হয়। তবে অন্তর্বতী সরকার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না বলে ঘোষনা দেন। এমন ঘোষনায় আমরা বিস্মিত এবং লজ্জিত। এই ন্যাক্কারজনক সিদ্ধান্তে সারাদেশের কর্মচারীদের মাথায় বাজ পড়ার মত উপক্রম হয়েছে।