লাইফ স্টাইল

কুষ্টিয়ায় মোবাইল সিম বন্ধ হওয়ায় ভোগান্তি

সারাদেশের ন্যায় কুষ্টিয়াতেও মোবাইল সিম বন্ধ হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কয়েকদিন ধরে কুষ্টিয়ার মোবাইল অপারেটর কাষ্টমার কেয়ারে ভিড় জমাচ্ছেন ব্যবসায়িকসহ নানা পেশার মানুষ। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল সিম বন্ধ হওয়ার কারণে মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টে টাকা উত্তোলনে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময়ে ব্যবহৃত সিম পেতে পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। তবে বন্ধকৃত সিম পুনঃউদ্ধারের জন্য সময় লাগছে প্রায় এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত। ভুক্তভোগীদের দাবী অতি কম সময়ের মধ্যে তাদের ব্যবহৃত সিম পেতে চান তারা। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সূত্রে জানা যায় বর্তমানে বিশ্বে মোবাইল সিম ব্যবহারের দিক দিয়ে বাংলাদেশ নবম অবস্থানে রয়েছে। বিটিআরসির তথ্যমতে, এই তালিকায় বাংলাদেশ পেছনে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো উন্নত দেশগুলোকে। ফলে নতুন বছরের শুরুতেই মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য হয়েছে বড় পরিবর্তন। সিম কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকার ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ফলে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা রোধ, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দমন এবং সিমের অপব্যবহার ঠেকাতে বিটিআরসি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বলা হয়েছে ১ জানুয়ারি থেকে একজন গ্রাহক তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৫টি সিম সক্রিয় রাখতে পারবেন এবং ৬ থেকে ১০টি সিম যাদের রয়েছে, তাদের অতিরিক্ত সিমগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। কুষ্টিয়াসহ সারাদেশে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত মোট সিমের সংখ্যা ২৬ কোটি ৬৩ লাখ এরমধ্যে নিবন্ধিত সিমের মধ্যে প্রায় ১৯ কোটি সিম সক্রিয় আছে, ৭ কোট ৬৩ লক্ষাধিক এর মতা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকায় সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে ব্যবহৃত মোবাইল সিম বন্ধ থাকায় নানা সমস্যার কথা জানালেন ভুক্তভোগীরা। আনিস নামে একজন ভুক্তভোগী বলেন ১ জানুয়ারি থেকে তার ফোনে কল আসেও না আমার যাচ্ছেও না পরে কাষ্টমার কেয়ারে গিয়ে জানতে পারেন তার ব্যবহৃত সিমটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে তিনি ব্যবসায়িকসহ নানান কাজে সমস্যা সৃষ্টি দেখা দিয়েছে। মোশারফ হোসেন নামে বিকাশ এজেন্সী বলেন তিনি তার ব্যবহৃত মোবাইল সিম দিয়ে বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। কিন্তু হঠাৎ করে তার ব্যবহৃত সিম বন্ধ থাকায় তিনি মোবাইল ব্যাংকিং থেকে আর ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। এতে তিনি অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। কবে সিম পাবে তিনি বলতে পারছেন না। তবে তিনি বলছেন যদি কোন সট টাইমে সিমগুলো দেওয়া হতো তাহলে তাদের অনেক উপকারে আসতো। সোনিয়া নামে এক গৃহিনী বলেন তার স্বামীর নামে ১০টির বেশি সিম থাকায় তার ব্যবহৃতি সিম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে তার স্বামী প্রবাসী হওয়ায় মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টে টাকা পাঠাতে পারছে না। এতে তার ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করতেও পারছে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে তিনি এই সমস্যাটি সমাধানের আশা কথা জানিয়েছেন। শুভ, কাষ্টমার ম্যানেজার, গ্রামীণ ফোন, কুষ্টিয়া বলেন সরকারী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২১ জানুয়ারী এই কার্যক্রম চালু হয়েছে। তবে এতে দেখা দিয়েছে বেশির ভাগ মানুষের ব্যবহৃত সিম বন্ধ হয়েছে। বন্ধকৃত সিমের জন্য অনলাইন আবেদন করা হচ্ছে কবে দেওয়া হবে সেটি বলা সম্ভব নয়।