সারা দেশ

কুমারখালীতে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি ও ভুয়া কাজীর অভিযোগে তদন্তের দাবি

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা: কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা ও রসুলপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন এলাকাবাসী। স্মারকলিপিতে তার বিরুদ্ধে একই সঙ্গে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা এবং বৈধ নিবন্ধন ছাড়া কাজীর দায়িত্ব পালন করে বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করার অভিযোগ এনে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, আব্দুল হালিম রসুলপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি কবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে মৌলানা শিক্ষক হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বৈধ নিকাহ নিবন্ধক (কাজী) না হয়েও বিভিন্ন স্থানে কাবিন ছাড়া বিয়ে পড়িয়ে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত কোরবানির ঈদের পরদিন উপজেলার উদয় নাতুরিয়া গ্রামে এক নাবালিকা কিশোরীর বিয়ে সম্পন্ন করেন আব্দুল হালিম। অভিযোগ অনুযায়ী, কনের বয়স কম হওয়ায় স্থানীয় কোনো নিবন্ধিত কাজী বা ইমাম বিয়ে পড়াতে রাজি না হলেও তিনি নিজ উদ্যোগে বিয়ে সম্পন্ন করেন। পরে কাবিননামা দিতে না পারায় উভয় পরিবার বিপাকে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকাবাসীর আপত্তির মুখে ওই কিশোরীকে শ্বশুরবাড়ি পাঠানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে তাকে আবার বিদ্যালয়ে ভর্তি করান এবং বর্তমানে সে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আব্দুল হালিম একই সঙ্গে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যুক্ত থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল হালিম বলেন, তিনি ওই বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন, তবে কাজী হিসেবে নয়, বরং উকিল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিয়ে পড়িয়েছেন স্থানীয় নিবন্ধিত কাজী। এছাড়া দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরির বিষয়ে তিনি জানান, রসুলপুর দাখিল মাদ্রাসাটি এখনো এমপিওভুক্ত নয়। সেখানে সুপার হিসেবে দায়িত্বে থাকলেও নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। অবসর সময়ে পরিচালনা কমিটির অনুরোধে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজে সহযোগিতা করেন।

এ বিষয়ে যদুবয়রা ইউনিয়নের সরকারি নিকাহ নিবন্ধক (কাজী) মো. রেজাউল ইসলাম দাবি করেন, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। কনের বয়স কম হওয়ায় তিনি বিয়ে সম্পন্ন না করে ফিরে আসেন। তার ভাষ্য, এরপর আব্দুল হালিম বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

এলাকাবাসী শতাধিক মানুষের স্বাক্ষরসংবলিত স্মারকলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার এবং জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়ে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আরও খবর

Sponsered content