খেলাধুলা

কুমারখালীতে এ কে রশিদ স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক:কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার দুর্গাপুর নওজোয়ান ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এ কে রশিদ স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ঘিরে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে কুমারখালী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রুবেল হোসেন রজন। সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা দাবি করেন, টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষক ও কুমারখালী পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী খান আতিকুর রহমান সবুজ-এর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ১ জুন দুর্গাপুর নওজোয়ান ক্লাবের আয়োজনে মরহুম এ কে রশিদ স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ১ লাখ টাকা এবং রানার্সআপ দলের জন্য ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। পুরো আয়োজনের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন খান আতিকুর রহমান সবুজ, যিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেন বলে দাবি করা হয়।
ফাইনালে অংশ নেয় মারুফ আব্দুল্লাহ স্পোর্টিং ক্লাব ও আরএসবি ইকো ব্লক ঝিনাইদহ ক্লাব। খেলার প্রধান অতিথি ছিলেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এছাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত এ খেলায় প্রায় ১০ হাজার দর্শকের উপস্থিতি ছিল বলে আয়োজকদের দাবি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৬ ওভারের খেলায় প্রথমে ব্যাটিং করে ঝিনাইদহ ক্লাব ৩০৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে মারুফ আব্দুল্লাহ স্পোর্টিং ক্লাব ১০ ওভার ৪ বলে ৫ উইকেটে ১৯০ রান করে। ষষ্ঠ উইকেটের একটি ক্যাচকে আম্পায়ার আউট ঘোষণা করলে দলটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে খেলা বর্জন করে। পরে তাদের অনেক অনুরোধ করা হলেও তারা মাঠে ফিরে আসেনি এবং উভয় দলকে যৌথভাবে বিজয়ী ঘোষণা করার দাবি জানায়, যা টুর্নামেন্টের নিয়মবহির্ভূত ছিল বলে আয়োজকরা উল্লেখ করেন।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, খেলায় অংশগ্রহণের আগে উভয় দলই লিখিতভাবে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত হিসেবে মেনে নেয়। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে টুর্নামেন্ট কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিজয়ী দল ঝিনাইদহ ক্লাবের হাতে ১ লাখ টাকার প্রাইজমানি তুলে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, রানার্সআপ দলের জন্য নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকা কমিটির কাছে সংরক্ষিত রাখা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, পরবর্তীতে একটি পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে খান আতিকুর রহমান সবুজের বিরুদ্ধে ১০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আয়োজকদের দাবি, এসব তথ্য সম্পূর্ণ অসত্য এবং এর মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আয়োজকরা জানান, অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারণা অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তারা জানান।