জাতীয়

খোকসায় খাল খনন নিয়ে বিতর্ক: সংসদের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার ভিন্ন চিত্র

বিশেষ প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন সংসদে দাঁড়িয়ে দাবি করেন, আইনমন্ত্রীর উদ্বোধনের পরও খাল খনন প্রকল্পে এখন পর্যন্ত একটুও মাটি কাটা হয়নি। তবে সরেজমিনে গিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে।

মোড়াগাছা–হাসিমপুর খাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আড়াই কিলোমিটার খালের মধ্যে প্রায় দেড় কিলোমিটার খনন কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি অংশে কাজ চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় দুটি খাল খনন প্রকল্প বর্তমানে চলমান রয়েছে।

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গত ১৬ মার্চ আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান মোড়াগাছা–হাসিমপুর খাল (২.৫ কিমি) খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এছাড়া শিমুলিয়া ইউনিয়নে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ শিমুলিয়া খাল খনন প্রকল্প আগামী ৮ মে উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ দোস্তদার হোসেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, দৈনিক ভিত্তিতে শ্রমিক নিয়োগ, হাজিরা এবং খাল খননের পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধন (গাছ লাগানোসহ) কার্যক্রমে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, মোড়াগাছা–হাসিমপুর খালের দেড় কিলোমিটার খনন কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি এক কিলোমিটার অংশে কাজ দ্রুত এগোচ্ছে।

খোকসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক জানান, উদ্বোধনের পর থেকেই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে খনন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রকল্প কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে খালটির পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হবে।

এদিকে সংসদে খাল খনন নিয়ে এমপি আফজাল হোসেনের বক্তব্যকে ‘মিথ্যাচার’ দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন।তিনি বলেন, আইনমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর থেকেই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে দেড় কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের মতে, খোকসা উপজেলার এই দুটি খাল খনন ও পুনঃখনন সম্পন্ন হলে প্রায় ১,২০০ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। পাশাপাশি জলাধারে দেশীয় মাছের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন স্থানীয় জেলেরা।

খাল খনন প্রকল্প নিয়ে ভিন্নমুখী বক্তব্যের মধ্যে বাস্তব অগ্রগতি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content