6 January 2026 , 5:54:59 প্রিন্ট সংস্করণ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া জেলায় ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা পুলিশ। নির্বাচনী সহিংসতা ও অরাজক পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে—বিশেষ করে সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলায় নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন সাংবাদিক সাজ্জাদ রানা।
এই বিষয়ে দৈনিক আন্দোলনের বাজার-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, “ভোটারদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা জেলা পুলিশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও আমরা কঠোর নজরদারি করছি। যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
পুলিশ সুপার জানান, কুষ্টিয়া জেলার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা পেরিয়ে যে কোনো ধরনের অবৈধ তৎপরতা বা অশান্তি সৃষ্টির পরিকল্পনা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সব ইউনিট অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে মাঠে আছে।
“নির্বাচন সামনে রেখে কেউ যেন সীমান্ত অঞ্চলকে ব্যবহার করে চক্রান্ত করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে গোয়েন্দারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে,” বলেন তিনি।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে চারটি সংসদীয় আসনের সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তা মূল্যায়ন চলছে, এবং বাড়তি সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে ২০ জানুয়ারির পর। সেই সময় প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের সিভিল টিম আগে থেকেই মাঠে থাকবে।
“যে এলাকায় প্রার্থীরা প্রচারণায় যাবেন, সেখানে আমাদের টিম আগেভাগেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে। প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পোশাকধারী পুলিশ, সিভিল টিম ও গোয়েন্দা সদস্যরা সক্রিয় থাকবে,” যোগ করেন তিনি।
ভোটারদের উদ্দেশে পুলিশ সুপার বলেন, “ভোটের আগে, চলাকালীন ও পরে—সব সময় জেলা পুলিশ আপনাদের পাশে থাকবে। কোনো ভয় নেই। ভোটকেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, দুর্গম চরাঞ্চল বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের যাতায়াতের সময় বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হবে, যেন কেউ তাদের কাজে বাধা দিতে না পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে জসীম উদ্দিন বলেন, প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সকল রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষ পুলিশকে সহযোগিতা করছে।
তিনি জানান, অতীতে কুষ্টিয়া চরমপন্থীদের তৎপরতার জন্য পরিচিত ছিল, তবে বর্তমানে তাদের নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়েছে।
“সন্ত্রাসী বা চরমপন্থী কেউ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে পারবে না। তাদের গতিবিধি গোয়েন্দারা নজরে রেখেছে,” বলেন পুলিশ সুপার।
সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে পুলিশ সুপার বলেন, “জেলা পুলিশ একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রেখে একটি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ হবে, মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। এই প্রত্যাশা করছি।”









