এক্সক্লুসিভ

কুষ্টিয়ায় হিমেল হাওয়ায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে

কুষ্টিয়া জেলাজুড়ে শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। শনিবার থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত জেলার কোথাও সূর্যের দেখা মেলেনি। ঘন কুয়াশা না থাকলেও আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে যাওয়া হিমেল হাওয়ায় কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে পুরো জেলায়। শীতের প্রভাবে সকালবেলা কুষ্টিয়া শহরসহ বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামীণ এলাকায় রাস্তাঘাট ছিল অনেকটাই ফাঁকা। অফিসগামী মানুষ ছাড়া সাধারণ মানুষের চলাচল ছিল সীমিত। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। কাজে যেতে না পেরে অনেকেই দিন কাটাচ্ছেন অনিশ্চয়তায়। শীতের প্রভাব পড়েছে হাটবাজারেও।

জেলার বিভিন্ন বাজারে সকাল ১০টার আগে দোকানপাট খুলতে দেখা যায়নি। পেটের তাগিদে অনেকেই বের হলেও কাজ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন হতাশ হয়ে। এতে দিনমজুর, ভ্যানচালক ও পরিবহনশ্রমিকদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরম কাপড়ের দোকান ও ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলোতে ভিড় বেড়েছে। সদর উপজেলার উজানগ্রাম এলাকার এক দিনমজুর জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঠান্ডা আর মেঘলা আবহাওয়ার কারণে কাজে যেতে পারিনি। শরীরেও ঠান্ডাজনিত সমস্যা আছে, বাইরে বের হওয়াই কষ্টকর।

কুষ্টিয়া শহরের এক অটো রিকশাচালক নাসির জানান, সকাল থেকে যাত্রী খুবই কম। অফিস টাইম ছাড়া তেমন লোক বের হচ্ছে না। শীতের কারণে আয় অনেক কমে গেছে। এদিকে শীতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কৃষিতেও। জেলার বিভিন্ন এলাকায় কোথাও কোথাও পেঁয়াজের চারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা কৃষকদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। তবে শীতের মাঝেই গড়াই নদীর চর ও আশপাশের এলাকায় সরিষা ক্ষেতের হলুদ গালিচা প্রকৃতিতে আলাদা সৌন্দর্য যোগ করেছে।

কুষ্টিয়া আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান আবহাওয়া আরও এক দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। মঙ্গলবার থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকবে। রোববার কুষ্টিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ বলেন, ঘন কুয়াশা না থাকলেও মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কারণে দু’এক দিন এমন আবহাওয়া থাকতে পারে। দুপুরের পর সূর্যের দেখা মিলতে পারে এবং মঙ্গলবার থেকে ধীরে ধীরে আবহাওয়ার উন্নতি হবে। এদিকে শীতের প্রভাবে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। শিশু ও বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ জ্বর, সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।