13 January 2026 , 6:43:34 প্রিন্ট সংস্করণ
পে স্কেল নিয়ে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে পে স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়লেও, নতুন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীরা মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন বলে সরকার স্পষ্ট করেছে।
আর্থিক সংকট এবং আসন্ন ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার এই মুহূর্তে নতুন পে স্কেল ঘোষণা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এ উদ্দেশ্যে গঠিত পে কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। কমিশনকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো প্রস্তুত করা যায়। কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে এবং তা নির্বাচনের পর নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সরকারি সূত্র জানায়, সময়ের স্বল্পতা এবং ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির কারণে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নতুন পে স্কেল ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান নিয়মেই মহার্ঘ ভাতা প্রদান অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণার প্রশ্নই ওঠে না। তার মতে, এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়াই যুক্তিযুক্ত। অন্যদিকে, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পে কমিশনকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
২০২৫ সালে মহার্ঘ ভাতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। সে বছর ১ জুলাই থেকে মহার্ঘ ভাতা কার্যকরের বিষয়ে প্রস্তাব ওঠে। বাজেট ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আলোচনায় প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১৫ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০ গ্রেডের কর্মীদের জন্য ২০ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার মহার্ঘ ভাতার পরিবর্তে নতুন পে স্কেল প্রণয়নের দিকেই অগ্রসর হয়।
সার্বিকভাবে বলা যায়, নতুন পে স্কেল বা বেতন কাঠামো ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন। সে হিসেবে, প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৫ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০ গ্রেডের কর্মীরা ২০ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারি কর্মচারীরা অষ্টম বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, এটি ২০১৫ সালের ১ জুলাই কার্যকর হয়েছিল। এর আগে ২০০৯ সালের ১ জুলাই সপ্তম বেতনকাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল। সাধারণত সরকার পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণা করে থাকে। কিন্তু অষ্টম বেতনকাঠামো ঘোষণার ৯ বছরের বেশি সময় পরও নতুন বেতনকাঠামো না আসায় অনেকের বেতন গ্রেডের শেষ ধাপে ঠেকেছে। এ বিষয় এবং মূল্যস্ফীতি আমলে নিয়ে ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের ২৭ জুলাই গঠিত হয় জাতীয় বেতন কমিশন। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা, যা জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগেই প্রায় সমাপ্ত হবে।





