7 February 2026 , 9:12:37 প্রিন্ট সংস্করণ
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যুবকদের বেকার ভাতা দিয়ে ছোট করার চিন্তা জামায়াতের নেই; বরং তাদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। লক্ষ্য হলো গোটা বাংলাদেশকে একটি শিল্পসমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে এগারো দলীয় জোট আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফরিদপুরে প্রচুর পাট উৎপাদন হলেও পাটকলগুলো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এবং অনেক মিল বন্ধ হয়ে গেছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের সেবা করার সুযোগ পেলে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল ও ফ্যাক্টরিগুলো পুনরায় চালু করা হবে এবং নতুন নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে।
ফরিদপুর বিভাগ ইস্যুতে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যতগুলো বিভাগের নামকরণ হয়েছে, সবই নির্দিষ্ট স্থানের নাম অনুসারে। ফরিদপুর নিয়ে অহেতুক ছলচাতুরী ও বিলম্ব করা হয়েছে, যা একটি জিদি মানসিকতার ফল।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি দেশের সেবা করার সুযোগ পাই, ফরিদপুরের নামেই বিভাগ ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে ফরিদপুরকে কেন্দ্র করে সিটি কর্পোরেশন ও মেট্রোপলিটন সিটি গড়ে তোলা হবে।”
নদী প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, “নদী আল্লাহর নিয়ামত, অথচ এই নদীগুলোকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা নদীগুলোকে আবার প্রাণ ফিরিয়ে দেব। দেশের উন্নয়নে নদীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
চিকিৎসা সেবা নিয়ে তিনি বলেন, “ফরিদপুরে একটি মেডিক্যাল কলেজ থাকলেও পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালের ঘাটতি রয়েছে। পরবর্তীতে যেসব হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোও প্রত্যাশিত মানে পৌঁছাতে পারেনি। ফরিদপুরের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করা হবে।”
দুর্নীতির বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে প্রতি কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ বা সংস্কারে যে ব্যয় হয়, চীন ও ভারতের মতো দেশে তার সাত ভাগের এক ভাগ খরচ হয়। তাহলে বাকি টাকা কোথায় যাচ্ছে?” তিনি বলেন, “জনগণ যাদের দায়িত্ব দেবে, তাদের দায়িত্ব হবে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।”
সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গুম-খুনের রাজনীতির অবসান ঘটবে এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি একটি নতুন বাংলাদেশের সূচনা হবে। শিক্ষিত যুবকদের আর বেকার হয়ে ঘুরতে হবে না, সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য হাহাকার করতে হবে না।”
আলোচনার শেষ পর্যায়ে তিনি ফরিদপুর-২, ফরিদপুর-৩, ফরিদপুর-৪, রাজবাড়ি-১, রাজবাড়ি-২ ও মাদারিপুর-৩ আসনের এগারো দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীকী ছবি তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন।
সমাবেশস্থল জনস্রোতে পরিণত হয়। এতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ এগারো দলীয় জোটের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।







