কৃষি বার্তা

কুমারখালীতে পেঁয়াজের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে চাষিরা

চলতি বছর কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অর্থকরী ফসল হিসেবে পেঁয়াজ আবাদে আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের। মাঠে মাঠে পেঁয়াজের চারা রোপণে ধুম পড়েছে। গত বছর ুড়েই পেঁয়াজের ভালো দাম ছিল বাজারে। মৌসুমের শুরুতে ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে পেঁয়াজ। কয়েক মাসে আগেও বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৩৫ টাকা কেজি। সেই পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। আর প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ পড়েছে ২২ থেকে ২৫ টাকা। ফলে খরচ বাদ দিয়েও লাভ হয়েছে চাষিদের। অবশ্য নতুন মুলকাটা পেঁয়াজের দাম এখন ৪৫/৫৫ টাকায় রয়েছে।
উপজেলার যদুবয়রা, পান্টি, বাগুলাট, নন্দলালপুর ও চাপড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে ঘুরে দেখা যায়, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সী ২০ থেকে ৩০ জন দলবদ্ধ ভাবে চারা রোপণ করছে। তারা জানান, চারা রোপণের ভরা মৌসুমে শ্রমিক চরম সংকট থাকে। এ সময় শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ নিজেদের জমিতে আবার অনেকে খরচ মেটাতে ৪০০/৫০০ টাকা মজুরিতে মাঠে কাজ করছে।
এদিকে কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে চাহিদা মত নন ইউরিয়া টিএসপি, এমওপি এবং ডিওপি সার পাওয়া যাচ্ছেনা। আবার কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি গুণলেই সার দিচ্ছেন সাব ডিলার ও অসাধু ব্যবসায়ীরা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
পান্টি ইউনিয়নের ভালুকা গ্রামের লাল্টু শেখ বলেন, গেল বছর ধরেই পেঁয়াজের ভালো দাম ছিল। প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৪০ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। সেজন্য মানুষ অন্যান্য চাষ বাদ দিয়ে পেঁয়াজ চাষ করছেন। কিন্তু চাহিদা মতো সার পাওয়া যাচ্ছেনা। তার ভাষ্য, তিনি তিন বিঘা জমিতে এবার পেঁয়াজের চারা রোপন করেছেন।
বরইচারা গ্রামের আবু বাদশা চলতি মৌসুমে প্রায় ১৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছেন। তিনি বলেন, জমির ইজারা, চাষ, চারা রোপন ও পরিচর্যা বাবদ প্রতি বিঘা জমিতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার খরচ হয়। আর ৬০ থেকে ৭০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। তাতে পেঁয়াজ চাষ করে চাষিরা খুবই লাভবান হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিঘাপ্রতি ১০ কেজির বেশি সার দেয়না ডিলার। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে সার কেনা হচ্ছে। এতে বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। তিনি ডিলারের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে পরিমিত সারের দাবি জানান।
কুমারখালী কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪ হাজার ৯২০ হেক্টর জমি পেঁয়াজ চাষাবাদের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে তিন হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। বছর জুড়ে ভালো দাম পাওয়ায় পেঁয়াজ আবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত জমিতে পেঁয়াজ চাষাবাদের প্রত্যাশা করছে কৃষি বিভাগ। জমি ভাড়া, বীজ, সার, চাষ ও পরিচর্চা বাবদ এবছর প্রতি হেক্টরে খরচ পড়ছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। তবে সারের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, এক হাজার ৩৫০ টাকা বস্তা টিএসপি সার এক হাজার ৮৫০ থেকে দুই হাজার টাকা, এক হাজার ৫০ টাকা বস্তা ডিএপি সার এক হাজার ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং এক হাজার টাকা বস্তা এমওপি সার এক হাজার ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে সাব ডিলার ও খোলাবাজারে।
কৃষকদের অভিযোগের কথা স্বীকার করেছেন কুষ্টিয়া বিসিআইসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি খন্দকার আব্দুল গাফফার। তিনি বলেন, চাহিদা অনুযায়ী সার দিচ্ছেনা সরকার। মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেও সারের যোগান হয়নি। ফলে কৃষকদের চাহিদা মতো সার দিতে পারছেনা ডিলাররা। তবে কোনো ডিলার অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছেনা।
অবশ্য সার নিয়ে ডিলাররা কোনো সিন্ডিকেট করলে তা ক্ষতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার। তিনি বলেন, কৃষকরা যেন সরকারি দামে এবং চাহিদা অনুযায়ী সার পাই, সেই লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে প্রশাসন।
সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকদের লাইনে দাঁড় করিয়ে ন্যায্যমূল্যে সার বিক্রি করা হচ্ছে।

ক্যাপশন= কুমারখালী (কুষ্টিয়া) ঃ পেঁয়াজের চারা রোপনে ব্যস্ত চাষীরা, ছবিটি ভালুকা মাঠ থেকে তোলা।