রাজনীতি

কুষ্টিয়ার-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ—

কুষ্টিয়ার চারটি সংসদীয় আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামার তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। পেশা, আয়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও মামলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একই দলের হলেও প্রার্থীদের সম্পদের পরিমাণ ও বৈশিষ্ট্যে রয়েছে উল্লেখযোগ্য বৈচিত্র?্য।

কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. অমিনুল ইসলাম হলফনামায় পেশা হিসেবে শিক্ষকতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে দাওরায়ে হাদিস উল্লেখ করেছেন। গৃহিণী স্ত্রী ছাড়া তার আর কোনো নির্ভরশীল নেই।

হলফনামা অনুযায়ী, পেশা থেকে তার বার্ষিক আয় ৪,০৬,৬৬৭ টাকা। মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখে তার হাতে নগদ অর্থ ছিল ৩৮,৮৭,০০০ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে মাত্র ০.০৭১২৫ একর অকৃষি জমি, যার অর্জনকালীন মূল্য ৯০,০০০ টাকা। আয়কর রিটার্নে তিনি মোট সম্পদের মূল্য দেখিয়েছেন ৩৯,৭৭,০০০ টাকা।

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ আলীও পেশায় শিক্ষক; শিক্ষাগত যোগ্যতা কামিল। হলফনামায় তিনি স্ত্রী ও সন্তানসহ দুইজন নির্ভরশীলের কথা উল্লেখ করেছেন; স্ত্রী গৃহিণী।

পেশা থেকে তার বার্ষিক আয় ৪,০৯,৯২২ টাকা। মনোনয়ন দাখিলের তারিখে হাতে নগদ ছিল ১৫,০০,০০০ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে উপহার হিসেবে পাওয়া ৬ ভরি সোনা, ১,৫০,০০০ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য ও ১,৫০,০০০ টাকার আসবাবপত্র। সব মিলিয়ে অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৩০,৫০,০০০ টাকা। তবে আয়কর রিটার্নে তিনি মোট সম্পদের মূল্য দেখিয়েছেন ১৮,০০,০০০ টাকা।

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আবদুল্লাহ আকন্দ পেশা হিসেবে ব্যবসা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা “স্বশিক্ষিত” বলে উল্লেখ করেছেন। গৃহিণী স্ত্রী ছাড়া তার আর কোনো নির্ভরশীল নেই।

হলফনামা অনুযায়ী, পেশা থেকে তার আয় বছরে ৪,০০,০০০ টাকা। মনোনয়ন দাখিলের সময় নগদ অর্থ ছিল ৩৩,০৫,৯০০ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আছে উপহার পাওয়া ১০ ভরি সোনা, ৫,০০০ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য ও ৫,০০০ টাকার আসবাবপত্র; সব মিলিয়ে অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৪০,২০,৯০০ টাকা। স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে তিনি যৌথ মালিকানায় ১৬.৫ একর অকৃষি জমি (যার মধ্যে তার অংশ ৮.২৫ একর) অর্জনকালীন মূল্য ১০,০০০ টাকা এবং ১০,০০০ টাকার একটি টিনশেড বাড়ির কথা উল্লেখ করেছেন; স্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ধরা হয়েছে ১২,০০,০০০ টাকা। আয়কর রির্টানে মোট সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে ৩৩,২৫,৯০০ টাকা।

কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আনোয়ার খান হলফনামায় পেশা হিসেবে ব্যবসা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি উল্লেখ করেছেন। তার নির্ভরশীল কেবল গৃহিণী স্ত্রী।

তার বার্ষিক আয়-তথ্যে বলা হয়েছে, কৃষিখাত থেকে ৩,২০,০০০ টাকা এবং ব্যবসা থেকে ১২,০০,০০০ টাকা আয় করেন। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে মনোনয়ন দাখিলের তারিখে হাতে ছিল ২৮,০৯,৪০০ টাকা নগদ অর্থ, একটি প্রাইভেট জিপের মূল্য ৭০,৪০,০০০ টাকা এবং অন্যান্য খাতে ৮৬,০০,০০০ টাকা; সব মিলিয়ে অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ২,৫৫,৪০,০০০ টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১২.১৭৮৫৭ একর কৃষিজমি (মূল্য ৪,৫২,৩৬,০০০ টাকা), ০.৩৬৩৫ একর অকৃষি জমি (অর্জনকালীন মূল্য ২৮,০০,০০০ টাকা), যৌথ মালিকানায় ০.৭৮৫ একর কৃষিজমি (তার অংশ ০.৩৯২৪ একর, অর্জনকালীন মূল্য ১২,৪৮,৫০০ টাকা), ৪০,০০,০০০ টাকার একটি ভবন এবং চা বাগান/মাছের খামার ব্যবসায় ১,৪১,০৯,৮০০ টাকার বিনিয়োগ। সব মিলিয়ে স্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ২৪,১৯,৯৫,২০০ টাকা। আয়কর রিটার্নে নিজ নামে দেখানো সম্পদের পরিমাণ ১২,১৯,৯৫,২০০ টাকা।

তার স্ত্রীর নামে নগদ রয়েছে ২৬,৬৫,৩৩৯ টাকা এবং উপহার হিসেবে পাওয়া ৩০ ভরি সোনা। আয়কর রিটার্নে স্ত্রীর মোট সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে ৩,৪৪,৭৩,৮৩৯ টাকা। হলফনামায় আরও উল্লেখ আছে, তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলায় তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।

এভাবে কুষ্টিয়ার চারটি আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, শিক্ষক ও ব্যবসায়ী—দুই ধরনের পেশাজীবীই প্রার্থী হয়েছেন; তবে বিশেষ করে কুষ্টিয়া-৪ আসনে প্রার্থী আনোয়ার খানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ অন্য আসনের প্রার্থীদের তুলনায় অনেক বেশি।

আরও খবর

Sponsered content