7 February 2026 , 9:10:22 প্রিন্ট সংস্করণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নিজের দলীয় কার্যালয়ে রয়টার্সকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক, জেনজি প্রজন্মের ভোট এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেন।
আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নাম উঠে আসছে। একসময় নিষিদ্ধ থাকা দলটি বর্তমানে আবারও সক্রিয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতের যৌথ জোট সরকার দেশ পরিচালনা করেছিল। সম্প্রতি জামায়াত জানিয়েছে, তারা দেশকে স্থিতিশীল করতে একটি ঐক্য সরকারের অংশ হতে আগ্রহী।
তবে এই বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান রয়টার্সকে বলেন, “আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধীদলই বা কে হবে?” তিনি আরও বলেন, “আমি জানি না তারা কতটি আসন পাবে। তবে যদি তারা বিরোধীদলে থাকে, আমি আশা করি তারা একটি ভালো বিরোধীদল হবে।”
বিএনপি সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়লাভে আত্মবিশ্বাসী। দলটি ২৯২টি আসনে সরাসরি প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে তাদের মিত্র দলগুলো প্রার্থী দিয়েছে।
যদিও নির্দিষ্ট আসন সংখ্যার কথা জানাননি তারেক রহমান, তবে তিনি বলেন, “সরকার গঠনের জন্য আমাদের যথেষ্ট আসন থাকবে—এ বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।”
সাম্প্রতিক মতামত জরিপগুলোতে সাধারণভাবে বিএনপির জয় অনুমান করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের শক্ত চ্যালেঞ্জের কথাও উঠে এসেছে। এই জোটে জেনজি প্রজন্মের একটি দল রয়েছে, যারা যুব নেতৃত্বাধীন শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশ বর্তমানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি দীর্ঘদিনের মিত্র রাষ্ট্রের আশ্রয়ে রয়েছেন। গত বছর ঢাকার একটি আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।
শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার ভারতের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
নির্বাচিত হলে বাংলাদেশ ভারতের দিক থেকে সরে চীনের দিকে ঝুঁকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সক্ষম এমন অংশীদার বাংলাদেশের প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, “আমরা যদি সরকারে আসি, আমাদের তরুণদের জন্য চাকরি দিতে হবে, দেশে ব্যবসা আনতে হবে—যাতে কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন পায়। বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে দেশ বা পক্ষ আমাদের জনগণের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব হবে—কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে নয়।”
শেখ হাসিনার সন্তানরা বিদেশ থেকে ফিরে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন কি না—এ প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, “যদি কেউ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হন, যদি মানুষ তাকে স্বাগত জানায়, তাহলে রাজনীতি করার অধিকার সবারই আছে।”











