রাবিশ দিয়ে চলছে স্কুল ভবনের ছাদ ঢালায়

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ঃ নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার,ভবনের পিলারের রড চুরি সহ নানা অনিয়মে বন্ধ হয়ে যায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলাধীন শত বছরের পুরানো ঐতিহ্যবাহী যদুবয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উর্দ্ধমুখী দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ভবন সম্প্রসারনের কাজ।পরিবর্তন করা হলো ঠিকাদার।কিন্তু তাতেও যেন থামছে না নির্মাণাধীন স্কুল ভবনের অনিয়ম ও দুর্নীতি। প্রকৌশলী অফিসের তদারকির অবহেলা আর ঠিকাদারের অসৎ আচারন ও দুর্নীতির মধ্যে দিয়ে কচ্ছপ গতিতে এগিয়ে চলেছে নির্মাণ কাজ।
বর্তমানে বিদ্যালয় ভবনের নির্মাণ কাজের অংশ হিসেবে চলছে ছাদ ঢালায়।ছাদ ঢালায়ে ছয়মাস আগে ভাঙা নিম্নমানের খোয়া ও রাবিশ ব্যবহারের অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।
রোববার বিকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়,প্রকৌশলী ও স্কুল কর্তপক্ষের সামনেই ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত হচ্ছে নিম্নমানের খোয়া ও রাবিশ।সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে বন্ধ হয়ে যায় নির্মাণ কাজ।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী জানান,কর্তপক্ষের ম্যানেজ করেই নানা অনিয়মের মধ্যেদিয়ে কাজ চলছে।এখানে অর্ধেক খোয়া অর্ধেক রাবিশ ব্যবহৃত হচ্ছে।
এবিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ফয়েজ উদ্দিন জানান,কাজ খুব ভাল হচ্ছে।খোয়ার সাথে ২৫ ভাগ রাবিশ আছে।সবাই এভাবেই কাজ করে।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম,অর্থ বরাদ্দ ও কাজে অনিয়ম হচ্ছে কি না?এমন প্রশ্ন করতেই দ্রুত পালিয়ে যায় ম্যানেজার ফয়েজ।
এসময় ঘটনাস্থলে থাকা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকৌশলী শাহিন এর নিকট কাজের মান জানতে চাইলে তিনি প্রথমে কথা বলতে রাজি হননি ক্যামেরার সামনে।পরবর্তীতে তিনি জানান,কাজ খুব ভাল হচ্ছে।রাবিশের বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান,ইট ভাঙলে রাবিশ হবেই।পানি দিলে রাবিশ থাকেনা।হঠাৎ কাজ বন্ধ হওয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান,আমাকে জেলা অফিস থেকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়ায় আপাতত কাজ বন্ধ।
জানা যায়,প্রায় ৬৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত যদুবয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার উর্দ্ধমূখী সম্প্রসারণ কাজ গত ১৮/০৬/২০১৮ ইং তারিখে শুরু হয়ে ১৭/০২/২০১৯ ইং তারিখে শেষ হওয়ার কথা।কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, দুর্নীতি ও গড়িমসিতে নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত  ১০ মাস পার হলেও শেষ হয়নি নির্মাণাধীন কাজ।ফলে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম।দুর্ভোগ চরমে।
এবিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুন্সী বজলুর রহমান মুঠোফোনে জানান,আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় কাজের ওখানে থাকতে পারিনি।তিনি আরো জানান, ঠিকাদারের অনিয়মের কারনে একটা ঠিকাদার বদল করিয়েছি।বর্তমান ঠিকাদারও ঠিকমত কাজ করেনা।আমি কুষ্টিয়া অফিসে কয়েকবার অভিযোগ জানিয়েছি।তিনি জানান,ঠিকাদারের গড়িমসিতে বিদ্যালয়ের পাঠদানে ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি হয়।চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছি।
Loading...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here