গোপন বুথে ওরা কারা

ঢাকা: দুপুরে ‘গোপন বুথে ওরা কারা’ শীর্ষক একটি খবর প্রকাশিত হওয়ার পর পরই বন্ধ হয়ে যায় ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ। জানা যায়, কেন্দ্রটিতে ভোটারদের জোর করে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করছিলেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এর আগে ওই কেন্দ্র থেকে বিএনপি এজেন্টদের পিটিয়ে বের করে দেন বলে অভিযোগ শোনা যায়।

ঘটনায় জানা যায়, সকাল এগারোটা ওই কেন্দ্রের আশপাশে থাকা লোকজন এদিক-সেদিক দৌড়াদৌড়ি করছেন। ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ কেন্দ্রের প্রবেশ মুখে তালা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন অনেকেই। কেন্দ্রের আশপাশে তখন কয়েকশত যুবক। নৌকার ব্যাজ পরে ঘুরাফেরা করছে ৪০-৫০ জন।

সাংবাদিক পরিচয় ওই কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকেই দেখা যায়, আবুল কালাম আজাদের লাটিমের স্লিপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অপরিচিত যুবকরা। যাদের অধিকাংশের কাছে নেই নতুন ভোটার স্মার্ট কার্ড।

এরপর ১১ টা ৩৬ মিনিটে ওই কেন্দ্রের ৪ নাম্বার বুথে গিয়ে দেখা যায় ,এক ভোটার গোপন কক্ষে ভোট দিচ্ছেন। আর গোপন বুথের পাশে থেকে দুই যুবক ফজলে নূর তাপসের নৌকা প্রতীক ও আবুল কালাম আজাদ লাটিম প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন।

এসময় পাশে থেকে রুবেল নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বলছেন, আপনারা ৫০ জন ৫০ জন করে করে কেন্দ্রে ভোটার পাঠান, ভোট দেয়ার ব্যবস্থা আমি করে দিচ্ছি। ভোটার নিয়ে আসেন পরের দায়িত্ব
আমার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই বুথের সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার মো. আনোয়ারুল ইসলাম আমার সংবাদকে বলেন, অনেকেই ইভিএমে কিভাবে ভোট দেবে এটি জানেন না। তাই আমাদের দুজন কর্মকর্তা পাশে দাঁড়িয়ে ভোট দেয়ার পদ্ধতি দেখিয়ে দিচ্ছেন। ভোটারদের সহযোগিতা করছেন।

যিনি গোপন বুথে পাশে দাঁড়িয়ে বাটন চাপ দেয়ার জন্য দেখিয়ে দিচ্ছেন এদের একজনের নাম আনিসুল হক। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা নিয়ম রয়েছে, নির্বাচন কমিশন বলেছে, আমরা দেখিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু কোন প্রতীকে সিল মারবে ভোটাররা এটি বলার অধিকার আছে কিনা? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, যান লিখেন গিয়া, আমাদের কিচ্ছু হবে না। সূত্র: দৈনিক আমার সংবাদ।

Loading...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here