কুমারখালীতে নতুন রাস্তা হওয়ার আনন্দই এখন চরম দুর্ভোগ এলাকাবাসীর

মিজানুর রহমান নয়ন,কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ঃ সরকার যায়,সরকার আসে।জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচন আসলেই নানামূখী উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে হাজির হয় এলাকাবাসীর দ্বারেদ্বারে। কিন্তু সময়ের কালস্রোতে প্রতিনিধিদের সুদিন আসলেও এলাকাবাসীর ভাগ্যের কোন পরিবর্তন আসেনি।পাকা রাস্তা না থাকায় তাদের চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগ যেন যুগ যুগ ধরেই প্রবাহমান।

সাম্প্রতিক সময়ে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র মাইলফলক উন্নয়নের অংশ হিসেবে রাস্তা পাকাকরন তালিকায় এই কাঁচা রাস্তাটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দুর্ভোগ নিরসনের আশায় আনন্দে আত্মহারা হয়েছিল এলাকাবাসী।আশায় আশায় বুক বেঁধেছিল তারা, যে পাকা রাস্তা দিয়ে চলাচল করব।তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হবে।ছেলে মেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারবে পাকা রাস্তা দিয়ে।

কিন্তু এলাকাবাসীর পাকা রাস্তা নির্মাণের আনন্দ যেন আর আনন্দে থাকলোনা।আরো দ্বিগুণ দুর্ভোগ ও ভোগান্তির কারন হয়ে গেলো।

সরেজমিন গেলে এলাকাবাসী জানান, প্রায় ৬ মাস আগে রাস্তার বেড কেঁটে রেখেছে।মাঝে মাঝে বালুর স্তুপ। একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি জমে।আমরা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারছিনা।একজন মানুষ অসুস্থ হলেও কোন ডাক্তার আসতে চায়না এই দুর্ভোগের রাস্তা দিয়ে।যানবহনে করে হাসপাতালে নেওয়ারও উপায় নেই।পাখি ভ্যান,অটোগাড়ি সহ কোন যানবহনই চলতে পারছেনা।ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না।
এদুর্ভোগ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের জাহেদপুর পাকা রাস্তা হতে কোমরকান্দি পাকা রাস্তা পর্যন্ত(চেঃ০০-১৬০০ মিঃ) এলাকাবাসীর।

উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সুত্রে জানা যায়,”বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের “আওতায় জাহেদপুর পাকা রাস্তা হতে কোমরকান্দি পাকা রাস্তা পর্যন্ত ১ হাজার ৬০০ মিঃ কাজ গত ১৪/০৫/২০১৯ ইং তারিখে শুরু হয়ে ১০/১১/২০১৯ ইং তারিখে শেষ করার কথা।যার প্রাক্কালিত মূল্য ১ কোটি ১৪ লক্ষ ১৩ হাজার ৬০ টাকা এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে নির্বাচিত হন কুষ্টিয়া -৭০০০, বি/২২৯ হাউজিং এসটেট এর হুমায়ন এন্ড সন্স ট্রেডার্স।

এবিষয়ে স্থানীয় অটো চালক হালিম জানান,দীর্ঘ দিন যাবৎ বেড কাঁটা অবস্থায় পরে আছে রাস্তাটি।অটো নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারিনা।চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছি আমরা।ফেরিওয়ালা সেন্টু জানান,বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি বেঁধে যায়।ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারেনা।কেউ অসুস্থ হলে ডাক্তার আসতে চায়না।কোন যানবহন চলতে পারেনা।

জানা যায়,ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রোফাটার কুষ্টিয়া জেলা যবলীগের সাধারন সম্পাদক ও কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক স্বপন।এবিষয়ে মুঠোফোনে জিয়াউল হক স্বপন জানান,মাটি সংক্রান্ত জটিলতার কারনে রাস্তা নির্মাণে বিঘ্নিত হচ্ছে।তিনি আরো জানান,নির্মাণের সকল সামগ্রা ঐ এলাকাতে পড়ে আছে।আশা করছি অল্প দিনেই কাজ শেষ হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুব আলম জানান,গতকাল পরিদর্শনে গিয়েছিলাম।মাটি ভেজা থাকায় কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে।তিনি আরো জানান,কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

Loading...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here