কুমারখালীতে দিনরাত চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন।।জনদুর্ভোগ চরমে

মিজানুর রহমান নয়ন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ঃ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের জিলাপিতলার মুলগ্রাম ও চড় পাথরবাড়ীয়া সংলগ্ন গড়াই নদী থেকে অবৈধভাবে দিনরাত কোটি টাকার বালু উত্তোলন করছে ব্যবসায়ী মাসুদ।তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী ও বখাটে হওয়ায় ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা এলাকাবাসী। প্রায় ১২ মাসই অবৈধভাবে উত্তোলিত বালুবাহী ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারনে গ্রামীণ সড়কের বেহাল অবস্থা। ধূলাবালিতে অতিষ্ঠ জনজীবন। ঘরের জানালা থাকলেও তা ব্যবহার করতে পারছেনা গ্রামবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী মাসুদ।

বালু ব্যবসায়ী মাসুদ উপজেলার মূলগ্রামের মৃত আমোদ আলীর ছেলে। জানা যায়, উল্লেখিত বালিমহাল থেকে মাসুদ প্রায় ১৫ বছর যাবত অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করছে। এই বালিমহাল থেকে বালি উত্তোলনের পূর্বে সে বালি টানা কাঁকড়া ট্রলি চালাতো বলে জনশ্রুতি আছে। ইতিমধ্যে মাসুদ অবৈধভাবে বালি বিক্রির মাধ্যমে টাকার পাহাড় গড়েছে। জানা যায় তার একাধিক ড্রাম ট্রাক, স্ক্যাবিটর প্রাইভেট কার সহ কয়েক কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।

ইতিপূর্বে উপজেলা প্রশাসন থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় মাসুদের বিরুদ্ধে জরিমানা ধার্য ও আদায় করা হয়। কিন্তু তারপরও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাসুদ অফিস বন্ধের দিনে দিনের বেলায় এবং অধিকাংশ গভীর রাতে বালি উত্তোলন করে রাজবাড়ী সহ বিভিন্ন জেলাতে দেদারসে তার অবৈধ ব্যবসার রামরাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে।

সরজমিন জিলাপিতলার চড়পাথরবাড়ীয়া গিয়ে দেখা যায় বালি উত্তোলনের দৃশ্য।সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ড্রামট্রাক ও স্ক্যাবিটর রেখে পালিয়ে যায় চালক।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক এলাকাবাসী জানান,মাসুদ অবৈধভাবে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বালু তুলছে।বালুবাহী ট্রাকের কারনে রাস্তাঘাটের বেহাল দশা।ধূলাবালিতে অতিষ্ঠ আমরা।ঘরের একটা জানালাও খুলতে পারিনা।তারা আরো জানান,প্রতিবাদ করলে মাসুদ প্রাণনাশের হুমকি দেয়।প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোন ফল পায়নি আমরা।

এবিষয়ে বালিখেকো মাসুদের কাছে বালি উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে সে আক্রমনাত্মক ভঙ্গিতে বলে, সে বালি উত্তোলন করেনা, যারা করছে তাদের নিকট থেকে বালি কিনে তার নিজস্ব গাড়ীতে বিক্রি করে। কেন সে সরকারী নির্দেশ অমান্য করে বালি উত্তোলন করছে এমন প্রশ্নের উত্তরে জানায়, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাদেরকে বালিমহাল ইজারা না দিয়ে কোটি কোটি টাকার বালি ড্রেজার দিয়ে উত্তোলন করছে সেদিকে আপনারা নজরদারী করেননা কেন? সরকার কি তাহলে বালি ড্রেজিং এর বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমন প্রশ্নটি সে কৌশলে এড়িয়ে যায়।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান মুঠোফোনে জানান, রাতে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানার পর লোক পাঠিয়ে সত্যতা পাওয়া যায়নি। আজও দিনের বেলা বালি উত্তোলন করছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আমি বাইরে আছি ফিরে এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।

Loading...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here