কুমারখালীর অবৈধ চড় দখলকারী কে এই মাসুদ! তার ক্ষমতার উৎস কি?

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ঃ কুমারখালীতে প্রায় দেড় যুগ ধরে জিলাপিতলার মুলগ্রাম ও চড় পাথরবাড়ীয়ার বালিমহাল দখলে রেখে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে “প্রশাসনের নাকের ডগায়” কে এই মাসুদ বা তার ক্ষমতার উৎস কি? এমনই প্রশ্ন কুষ্টিয়া জেলাবাসীর।

এমনই বহুমুখী “?” জিজ্ঞাসা বোধক প্রশ্নের অনুসন্ধানে জানা গেছে মৃত কুবাদ আলীর নাতিছেলে ও মৃত আমোদ আলীর ছেলে মাসুদ। প্রচন্ড অসচ্ছলতার মধ্যে তার বেড়ে ওঠা এবং সংসার চালাতে কখনো তাঁতের কাজ কখনো গাড়ির হেলপারি কখনো বা বালি টানা গাড়ি চালিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করেছেন। হটাৎ করে কোটি টাকার মালিক হওয়া প্রাইভেট কারে চলাফেরার রহস্য কি খোঁজ খবর নিতেই বেড়িয়ে আসলো মুল কাহিনী।

বালির গাড়ি চালাতে চালাতেই অবৈধভাবে টাকা কামানোর নেশায় বালিখোর মাসুদের সৃষ্টি হয়েছে। জিলাপিতলার মুলগ্রামে চড় সংলগ্ন তাদের নিজেস্ব কিছু জমি ছিলো যখন চড়মহাল ইজারা দেয়া হতো তখনও তাদের নিজেস্ব জমির দোহায় দিয়ে সে চরের বালি অবলিলায় বিক্রি করেছে। এই বিষয়গুলো প্রশাসনের নজরে আসার পর একাধিকবার মাসুদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে। তাকে জরিমানা করা হয়েছে এবং জরিমানার টাকা দেবার পরেরদিন থেকেই সে আবার শুরু করে তার অবৈধ বালি উত্তোলন। মাসুদের পারিবারিক গোষ্ঠী অনেক বড় এবং বেপরোয়া হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না ইতিপূর্বে অত্র এলাকার এক ব্যক্তিকে পঙ্গু করে দিয়েছে বলে জানা গেছে। তার বেপরোয়া চলাফেরা এবং উদ্ধত আচরণের রহস্য কি এটি প্রশ্নবিদ্ধ? সে অবলীলায় জনসম্মুখে বলে প্রশাসন এবং সাংবাদিকদের টাকা দিয়েই সে তার অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ১৭ জানুয়ারী বিকেলে জিলাপিতলার চড়পাথরবাড়ীয়া গিয়ে দেখা যায় বালি উত্তোলনের দৃশ্য। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ড্রামট্রাক ও স্ক্যাবিটরের ড্রাইভার পালিয়ে যায়।

এসময় বালিখেকো মাসুদের কাছে বালি উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে সে আক্রমনাত্মক ভঙ্গিতে বলে সে বালি উত্তোলন করেনা, যারা করছে তাদের নিকট থেকে বালি কিনে তার নিজস্ব গাড়ীতে বিক্রি করে। কেন সে সরকারী নির্দেশ অমান্য করে বালি উত্তোলন করছে এমন প্রশ্নের উত্তরে জানায়, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাদেরকে বালিমহাল ইজারা না দিয়ে কোটি কোটি টাকার বালি ড্রেজার দিয়ে উত্তোলন করছে সেদিকে আপনারা নজরদারী করেননা কেন? সরকার কি তাহলে বালি ড্রেজিং এর বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমন প্রশ্নটি সে কৌশলে এড়িয়ে যায়।

দ্রুতগতিতে অবৈধভাবে চড়মহাল থেকে বালি উত্তোলনকারী মাসুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে কুমারখালীবাসী।

Loading...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here