আহারের পরিমান নিয়ে ইসলাম যা বলে!

চিকিৎসাবিজ্ঞানের এমন অভাবনীয় উন্নতির পরেও নানা কারণে মানুষের মধ্যে রোগব্যাধি ও অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। শরীরের রোগ প্রতিরোধের উপাদানগুলো দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে। প্রতিদিনই ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, ব্লাড প্রেসার, শ্বাসকষ্ট, অনিদ্রা ইত্যাদি রোগের কথা শোনা যায় মানুষের মুখে মুখে। এর সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নতুন নতুন ভাইরাস ও অদ্ভুত রোগব্যাধি। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডাক্তার ও হাসপাতালের সংখ্যা। কিন্তু ইসলাম কি বলছে? ইসলাম সব সময়েই পরিমিত আহারের কথা উল্লেখ করেছে। শান্তির এ ধর্মে আরও উল্লেখ রয়েছে ‘অতিরিক্ত কিছুই ভালো নয়’। এদিকে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও বলছে কম আহার করুন, বেশিদিন বাঁচুন। আর মানুষকে বারবার এ কথা বলা হচ্ছে যে বেশি খেলে বহু রোগ সৃষ্টি হয়। চলুন জেনে নেই বেশি খাওয়ার ক্ষতি কি?

অতিরিক্ত খাবার গ্রহনে আপনার মস্তিষ্কের ব্যাধি, চক্ষুরোগ, জিব ও গলার রোগ, বক্ষ ও ফুসফুসের ব্যাধি, হূদেরাগ, যকৃত্ ও পিত্তের রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, মস্তিষ্কের শিরা ফেটে যাওয়া, দুশ্চিন্তাগ্রস্ততা, অর্ধাঙ্গ রোগ, মনস্তাত্ত্বিক রোগ, দেহের নিম্নাংশ অবশ হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে। কিন্তু মহানবী (সা.)-এর জীবনচরিত ও হাদিসের প্রতি লক্ষ করলে দেখা যায় তাঁর খাদ্যবিধি ছিল খুবই সীমিত। মহানবী বলেন, পেটের এক-তৃতীয়াংশ আহারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য আর এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৩৪৯) পেটের এক-তৃতীয়াংশ পানি দিয়ে পূর্ণ করতে বলার কারণ হলো, পানির মধ্যেও বহুবিধ উপকারিতা রয়েছে। উল্লেখ্য, একজন ঈমানদার শুধু নামাজ-রোজায়ই তাঁর জীবনকে সীমাবদ্ধ রাখেন না; তাঁর আহার-বিহার, নিদ্রা-জাগরণ—সব কিছুই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনাদর্শ মোতাবেক পরিচালিত হতে হবে। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর এক সাহাবি বলেন, ”আমরা এক যুদ্ধে গিয়েছিলাম।

আমাদের মধ্যে খাদ্যের অভাব দেখা দিল। অবশেষে আমাদের কিছু সওয়ারির বাহন জবাই করার কথা ইচ্ছা করেছিলাম। তখন নবী করিম (সা.)-এর নির্দেশে আমরা আমাদের খাদ্যদ্রব্য একত্র করলাম। আমরা একটি চামড়া বিছালাম এবং তাতে লোকদের খাদ্যদ্রব্য জমা করা হলো। বর্ণনাকারী বলেন, আমি সেটির প্রশস্ততা অনুমান করার জন্য দাঁড়ালাম এবং আমি আন্দাজ করলাম, সেটি একটি ছাগল বসার স্থানের সমান। আর আমরা সংখ্যায় ছিলাম চৌদ্দ শ জন। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা সবাই তৃপ্তির সঙ্গে খেলাম। তারপর আমাদের নিজ নিজ খাদ্য রাখার থলে পূর্ণ করে নিলাম…।’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ৪৩৬৯, ইফা) এই হাদিসের ভাষ্য মতে, পাঁচমিশালি অল্প খাবার বহু মানুষের জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়। মহান আল্লাহ আমাদের সুস্থভাবে বেঁচে থেকে তাঁর ইবাদত করার তাওফিক দান করুন, আমিন।

Loading...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here