হত্যার প্রমাণ মেলেনি : পিবিআই

ঢাকা : দেশের রুপালি পর্দার তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর মৃত্যু হত্যা না আত্মহত্যা এ রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে হত্যার কোনো প্রমাণ মেলেনি। গত তিন বছর ধরে প্রায় ১০ জন সাক্ষীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পিবিআইয়ের তদন্ত বলছে, ঘটনাটি আত্মহত্যা।

হত্যা না হলেও কেন আত্মহত্যা করেছিলেন সালমান শাহ সেসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণও উদ্ঘাটন করেছে পিবিআই।

পিবিআইয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে চলমান তদন্তটি প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন চলছে প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ। প্রতিবেদন প্রস্তুত হলে আগামী এক মাস কিংবা তারও কম সময়ের মধ্যে আদালতে জমা দেওয়া হবে। ভক্তদের কোনো অঘটনের শঙ্কায় কিছুটা সময় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে চাইছে সংস্থাটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিবিআইয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় যারা সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন তাদের কারো কাছ থেকে সালমান শাহকে হত্যার কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। এমনকি তাদের কাছ থেকে তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা করে একাধিক সন্দেহভাজনদের ওপরেও অনুসন্ধান চালিয়েছিল সংস্থাটি। কিন্তু তাতেও কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। উল্টো আত্মহত্যার মতো ঘটনাটি আরো পরিষ্কার হয়েছে।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু মামলাটির এখনো তদন্ত চলছে, তাই এ বিষয়ে কোনো কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্ত শেষে জানতে পারবেন বিস্তারিত।’

পিবিআইয়ের প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘মামলাটির এখনো তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে জানাতে পারব ঘটনাটি কী ছিল। তবে আমরা আশা করছি আদালতের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।’ পিবিআই প্রধান বলেন, ‘তদন্তে আমরা কী পেয়েছি সেটি এখন বড় বিষয় নয়। তদন্ত চলছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ এনে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি। ওই সময় অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যাকা্লের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে থানা পুলিশের পরিবর্তে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

তদন্তের পর ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে সংস্থাটি। ওই মাসের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে প্রতিবেদনটি গৃহীত হয়।

কিন্তু সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। এর ফলে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান আদালত। এরপর প্রায় ১৫ বছরে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে ছিল।

পরে ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। ওই প্রতিবেদনেও সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

আবারও ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন এবং বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন বলে আবেদন করেন।

২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের নারাজির আবেদন দাখিল করেন। নারাজি আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন তার ছেলে সালমান শাহর হত্যাকা্লের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।

পরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র‍্যাবকে। কিন্তু র‍্যাবের তদন্ত চলাকালে বেশ কয়েকবার শুনানি নিয়ে ২০১৬ সালের ১৯ মে মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা বিব্রত বোধ করে ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে মামলার নথি পাঠিয়ে দেন।

এ আদালতের বিচারক ইমরুল কায়েস ওই বছরেরই ২১ আগস্ট র‍্যাবের মাধ্যমে পুনঃতদন্তের (অধিকতর) আদেশ আইনসম্মত হয়নি উল্লেখ করে বিষয়টি আবারও শুনানি নেওয়ার জন্য ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমকে দায়িত্ব দেন।

এর ধারাবাহিকতায় মহানগর হাকিম লস্কর সোহেল রানা নারাজি আবেদনের ওপর আবারও শুনানি নেন। পরে ৭ ডিসেম্বর শুনানির পর সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা হত্যা না আত্মহত্যা- তা নির্ধারণের জন্য র‍্যাবের বদলে পিবিআইকে দায়িত্ব দেন।

সবশেষ গত ২ ফেব্রুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ ছিল। কিন্তু ওই দিন প্রতিবেদন দাখিল না করে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা পুনরায় সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আগামী ৩০ মার্চ তারিখে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

Loading...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here