হাউমাউ করে কাঁদলেন আকবরের বাবা-মা

ঢাকা: সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকার পচেসস্ট্রুম থেকে বাংলাদেশের টেকনাফ-তেঁতুলিয়ায় একই রব ‘শাবাশ বাংলাদেশ, শাবাশ বাংলাদেশ।’ আকবর আলী, শফিউল, ইমনরা সেটাকে পূর্ণতা দিলেন বিশ্ব শিরোপা লাভের মাধ্যমে। চারবারের অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়ন ভারতকে সহজেই বিধ্বস্ত করে জুনিয়র টাইগাররা এখন বিশ্বসেরা। এর চেয়ে ক্রিকেটে আনন্দের উপলক্ষ আর কিছুই হয়তো হতে পারে না।

এদিকে, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক আকবর আলীর মা সাহিদা আক্তার বলেছেন, আমার ছেলে জয় নিয়ে দেশে ফিরবে-এ পণ করেই খেলতে গিয়েছিল। সন্তান আমার অদম্য। তার ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। সঙ্গে আমরা একটা বিশ্বকাপ জিতলাম। রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) পচেফস্ট্রমে ফাইনালে শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে যুব বিশ্বকাপ জেতে আকবরের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

এর পর তার বাড়ি রংপুরের পশ্চিম জুম্মাপাড়ায় ভিড় জমান সাংবাদিকরা। এ সময় আনন্দে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে তাদের এসব কথা বলেন সাহিদা আক্তার। আকবরের মা বলেন, আমার দোয়া নিয়ে খেলতে গিয়েছিল ছেলে। আল্লাহর রহমতে দেশের মুখ বিশ্বে উজ্জ্বল করেছে সে। তার এ জয় পুরো দেশবাসীর।

এ দিন টিভি পর্দায় খেলা দেখেন আকবরের বাবা মোস্তফা। ছেলের পারফরম্যান্সে অভিভূত তিনি। দলের বৈশ্বিক শিরোপা জয়ে উদ্বেলিত। তার চোখে বেয়ে নামে আনন্দাশ্রু। হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে মোস্তফা বলেন, আমি কান্না থামাতে পারছি না। এ কান্না খুশির কান্না। আল্লাহ আমার ছেলের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। তাই পুরো বিশ্বে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে পেরেছে সে।

এ জন্য সবার কাছে ছেলের জন্য দোয়া চান তিনি। আকবরের বাবা বলেন, আমার ছেলে স্বপ্ন দেখত, সে একদিন দেশের হয়ে খেলবে। তার সেই মনোবাসনা পূর্ণ হয়েছে। ওর ইচ্ছে ছিল বিজয় ছিনিয়ে আনবে। দৃঢ় মনোবলে তা পূরণ করেছে ও। এদিকে, বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হওয়ার আগেই আকবরের বাড়িতে সংবাদকর্মীসহ অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষীর ঢল নামে। পরে বিজয় আনন্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে তার বাড়িসহ পুরো এলাকা। জয় উৎসবে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনন্দ মিছিল এসে ও বাড়ির সামনে সমবেত হয়।

Loading...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here