পরিচালকের রুম থেকে বেরিয়ে অঝোরে কাঁদলেন নায়িকা!

ভারতের বাংলা ছবির জনপ্রিয় পরিচালক অরিন্দম শীলের বিরুদ্ধে ‘মি-টু’র অভিযোগ তুলেছেন টালিউড অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র। তার অভিযোগ, ইস্টার্ন বাইপাসের কাছে অরিন্দমের অফিসে স্ক্রিপ্ট পড়ে শোনানোর কথা বলে তার সঙ্গে অশালীন ব্যবহার করেছিলেন পরিচালক।

শুধু তাই নয়, ঘনিষ্ঠ আলিঙ্গনের মাধ্যমে তাকে কদর্য ইঙ্গিতও করেছিলেন অরিন্দম। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে অঝোরে কাঁদেন অভিনেত্রী। খবর আনন্দবাজার।

রূপাঞ্জনা সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘সেই পরিচালক প্রযোজিত ভূমিকন্যাতে কাজ করেছিলাম। কাজ শুরুর দিকে আমাকে একদিন তার অফিসে স্ক্রিপ্ট শোনানোর নাম করে ডেকে পাঠান। অফিসে পৌঁছে দেখি, পুরো অফিস খালি, কেউ নেই।’

‘তারপরই পরিচালক আমার সঙ্গে অশালীন আচরণসহ ইঙ্গিতপূর্ণ হাবভাব করেন। আমি বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। এত বছর ইন্ডাস্ট্রিতে থাকার পর এমন বাজে প্রস্তাব আসতে পারে ভাবতে পারিনি। সেদিন মনের জোরে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম।’

‘ওই সময় তার স্ত্রীও এসে পড়েন। আমি প্রস্তাবে রাজি হইনি বলে আমার ফোটোশুট হলেও, ভূমিকন্যার পোস্টার থেকে আমাকে বাদ দেয়া হয়।’

এই অভিনেত্রীর অভিযোগ, ‘এই পরিচালকই সাত-আট বছর আগে আমার এক বান্ধবীকেও (সেও পরদার পরিচিত মুখ) অশালীন প্রস্তাব দেন। আমার বান্ধবী আর্টিস্ট ফোরামে অভিযোগও করেছিল।’

এতদিন পর মুখ খোলার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ঘটনাটার এক বছর কেটে গেছে। তখন মুখ খুলিনি কারণ আমি ওই বেসরকারি চ্যানেলটির সঙ্গে কনট্র্যাক্টে ছিলাম। তাহলে চ্যানেলটির নাম খামোকা জড়িয়ে যেত। দ্বিতীয়ত, মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলাম যে, ভেবে পাচ্ছিলাম না কী করব! ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম। এখন মনে হল এই সব মানুষের মুখোশ খুলে দেওয়া দরকার। আজ আমাকে প্রস্তাব দিয়েছে। কাল নতুন কোনও মেয়েকে একই প্রস্তাব দেবে।’

অরিন্দম শীল ২০১৩ সাল থেকে পরিচালনায় নিয়মিত হন। আবর্ত (২০১৩), এবার শবর (২০১৫), হর হর ব্যোমকেশ (২০১৫), স্বাদে আহ্লাদেসহ (২০১৫) বেশ কয়েকটি ছবি পরিচালনা করেছেন।

অভিযোগের ব্যাপারে পরিচালক অরিন্দম শীল বলেছেন, ‘এটা হয়তো পলিটিক্যাল স্টান্ট। আমি জানি না ও কেন এসব বলছে। এতদিনের বন্ধু ও আমার। যেদিনের কথা ও বলছে সে দিন অফিস থেকে বেরিয়ে ও আমায় টেক্সট করেছিল, আই অ্যাম সো এক্সসাইটেড। একসঙ্গে ওয়ার্কশপ করতে হবে কিন্তু। সেই টেক্সটও দেখাতে পারি আমি। তার কথা মতো যে ‘কুপ্রস্তাব’ দেবে তাকে কি ও আবার পাল্টা টেক্সট করবে?’

‘‘শুধু তাই নয়, ‘মিতিনমাসি’-র সময় আমি নিজে তাকে আমন্ত্রণ করেছিলাম। ও বলেছিল আসার চেষ্টা করবে। হঠাৎ করে ও কেন এ সব মনগড়া কথা বলছে আমি সত্যিই জানি না। একজন নারী হঠাৎ করে কোনো পুরুষ সম্পর্কে যা কিছু একটা বলে দিল মানেই সেটা সত্যি হয়ে গেল? সে মিথ্যা বলছে।”

Loading...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here