ঠাকুরগাঁওয়ে স্থানীয় প্রশাসনের উপরসহ দুই গ্রুপের পালটা-পালটি অভিযোগ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানার ১ নং রুহিয়া ইউনিয়নের ঘনিবিষ্টপুর ৭নং ওয়ার্ডে ৪৯ শতক জমিকে কেন্দ্র করে ঘর বাড়ি ভাংচুর ও দু’গ্রæপের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছে-২ জন ও এতে স্থানীয় প্রশাসনের উপরসহ দুই গ্রæপের পালটা-পালটি অভিযোগ।

আহতরা এখনো ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে। আহতরা হলেন, সামসুল আলম (৭০) লিটন রানা (২০)।
রোববার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থলে সরজমিনে গেলে এবিষয়ে সামসুলের ছেলে সাত্তার বলেন, আমাদের জমি নিয়ে সমস্যা দীর্ঘদিন থেকে। চেয়ারম্যান বিষয়টি বিচার ও মিমাংসা করে দিতে চাইলেও এখনো তারা এটার কোন সমাধান দেননি। শনিবার রাতে রফিজউদ্দিন ও তার ছেলে এবং সাদেকুল সহ তাদের গ্রæপের সহযোগ প্রায় ১০০ জন এসে আমাদের বাড়ির দুই পাশে ঘেরাও করে। পরে চেয়ারম্যান এর নির্দেশে আমার বাবাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় চেয়ারম্যান ও পুলিশ থাকা সত্তে¡ও পেছন থেকে রফিজউদ্দিনের গ্রæপের মানুষ গুলো আমার বাপকে লঠি দিয়ে মারপিট করে আমার বাপের পা ভেঙ্গে দেয় ও আমাদের বাড়ি ঘর ভাংচুর করে, পরে পুলিশ আমার বাপকে ছেড়ে দেয়। এখন আমার বাপ হাসপাতালে ভর্তি আছে।

এদিকে সাত্তারের স্ত্রী শাহিনা আক্তার বলেন, আমরা এখানে অনেক দিন থেকে বসবাস করে আসছি। আমাদের উপরে অনেক নির্যাতন করছে তারা। এখানে আমাদের কোন নিরাপত্তা নেই। আমরা এটার বিচার চাই।
রোববার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় আহত সামসুল আলম জানান, দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে সাবেক মেম্বার রফিজউদ্দিন এর সাথে জমি নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ আমার। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) আনুমানিক রাত ১২টার দিকে রফিজউদ্দিনের কিছু লোক এসে আমার বাড়ি ঘর ভাংচুর করে ও ১ নং রুহিয়া ইউপি’র চেয়ারম্যান মনিরুল হক (বাবু)’র নির্দেশে আমার ঘর বাড়ি ভাংচুর করে এবং আমাকে মারপিট করে।
অন্যদিকে আহত লিটন রানা জানান, ঘনিবিষ্টপুরে রাতে আমার চাচার জমিকে কেন্দ্র করে মারা-মারি লাগলে সেখানে আমি গেলে আমাকে সামসুল আলম এর ছেলে সাত্তার চাইনিজ কুরাল দিয়ে কোপ মারে এত আমার হাত কেটে যায়।

অন্যদিকে রফিজউদ্দিন (৮০) এর কাছে বিষয়টি মোবাইল ফোনের মাধ্য জানতে চাইলে তিনি জানান, ৪৯ শতক জমি আমরা তাদের কাছ থেকে ক্রয় করে নিয়েছিলাম। কিন্তু তারা এখন জমি দিতে নারাজ। এর আগেও কয়েক বার পুলিশ তাদের ঐখান থেকে উচ্ছেদ করে দিয়েছিল তার পরেও তারা সেখানে ঘর তুলে। শনিবার রাতে আমি সেখানে মারামারি করতে যায়নি আমার পক্ষের কিছু মানুষ মানে আমার শুভাকাংখীরা গিয়ে ঘর বাড়ি ভাংচুর করে। এতে আমার একজনের হাত কাটে দেয় সাত্তার নামের এক ছেলে।

চেয়ারম্যান এর নির্দেশে এমন ঘটনা ঘটেছে এবিষয়টি ১ নং রুহিয়া ইউপি’র চেয়ারম্যান মনিরুল হক (বাবু)’র কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এটা সম্পূর্ণভাবে ভুল। আমি সেখানে তাদের উপকার করতে গিয়েছিলাম। আমি তাদের ঝামেলা না করা জন্য নিষেধ করলে বরং সামসুল ও তার পক্ষরাই আমার উপর ক্ষীপ্ত হয়। পরে কে বা কাহারা সেখানে ঘর বাড়ি ভাংচুর করেছে তা আমার জানা নেই।

বিষয়টি রুহিয়া থানার ওসি চিত্ত রঞ্জন দাস ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, গত ২৪ তারিখে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সেখানে ১৬৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু তারা দুই পক্ষই তা অমান্য করেছে। শনিবারের ঘটনার প্রেক্ষিতে এখনো কেও কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং নিয়ম ভঙ্গের কারণে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Loading...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here