কুমারখালীতে ড্রেনেজ খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনাদি নির্মাণের অভিযোগ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ঃ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের মির্জাপুর বাজার সংলগ্ন বাউডাঙে খাল দখল করে অবৈধভাবে বহুতল বিশিষ্ট পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় প্রভাবশালী নুরুল ইসলাম মন্টু’র বিরুদ্ধে। মন্টু অবসর প্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ ইন্সেপেক্টর ও ওই এলাকার মৃত বদরউদ্দিনের ছেলে।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, সারা বাংলাদেশে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় খাল খনন প্রকল্পে আওতায় শিলাইদহের কুঠিবাড়ি সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে মির্জাপুর, বাঁখই, শিবরাম পুর হয়ে বড়ুরিয়া গড়াই নদী পর্যন্ত সংযোগ খাল হিসেবে খনন করা হয় এটি। উল্লেখিত খাল দিয়ে উভয় নদীর প্রবাহিত পানি দিয়েই কৃষকদের সেচকাজের চাহিদা নিবারন হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায় অধিকাংশ এলাকায় খালের মাঝে ভরাট করে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল তাদের ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করছে। একই অসাধু উপায়ে মির্জাপুর বাজার সংলগ্ন উল্লেখিত খালের উপর অবসরপ্রাপ্ত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর নুরুল ইসলাম মন্টু বহুতল বিশিষ্ট ভবণ নির্মাণ করে মার্কেট বানিয়েছে এবং ভবণ সম্প্রাসারনকাজ অব্যহত রয়েছে।

এবিষয়ে খালের ভুক্তভোগী কৃষক লোকমান হোসেন (৭৩) অত্যন্ত দুঃখ করে জানান,জিয়াউর রহমান এই বাউডাঙে ড্রেনেজ খাল উদ্বোধন করেছিলেন।বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে জমির ফসল বিনষ্ট হত।পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় বন্যা হত।কিন্তু খালটি খননের পরে পানি প্রবাহ চলমান থাকায় এলাকাবাসীর আর তেমন ক্ষতি হত না।তিনি আরো জানান,কয়েক বছর ধরেই মানুষ খালের পানিপথে বাঁধা সৃষ্টি করে স্থাপনাদি নির্মাণ করছে।এতে কৃষি জমি আবারো হুমকির মুখে পড়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম মন্টু জানান, আমাদের জমির উপর দিয়েই খালটি খনন করা হয়েছে।তাই পিলার দিয়ে বহুতল মার্কেট বানিয়েছি।তিনি আরো জানান,মার্কেট বানানোর সময় ভূমি অফিসের লোকজন এসে কাগজপত্রাদি দেখে চলে যান।তবে অনুমতি না নিয়ে খালের উপর এমন পাকা স্থাপনাদি অবশ্যয় অবৈধ।সরকার চাইলে স্থাপনাদি ভেঙে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান মুঠোফোনে জানান,সরকারি খাল দখল স্থাপনাদি বানানোর কোনো সুযোগ নেই।উপজেলা প্রশাসন খাল, নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত স্বাপক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Loading...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here