কুমারখালীতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে চলছে স্কুলের কাজ

লিপু খন্দকার ঃ উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের কবুরাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবনের কাজ চলছে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে এবং নির্মাণ কাজ শুরু হবার মাঝখানে ৬/৭ মাস ফেলে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইসমাইল এন্টারপ্রাইজ উল্লেখিত স্কুলের ভবন নির্মাণ বাবদ ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকার কাজ পেয়েছেন। লেস বাদে ২ কোটি ৭৩ লাখ টাকার স্কুল ভবনের নির্মান কাজে দেখা দিয়েছে অনিয়ম ও ত্রুটি।

৮/০৪/১৯ তারিখে স্কুল ভবনের কাজ শুরু হবার পর ১৮ মাসের মধ্যে পুরোপুরি কমপ্লিট করে বুঝে দেবার কথা থাকলেও ইতিমধ্যে ৯ মাস অতিক্রম হয়ে গেলেও কাজের তেমন অগ্রগতি হয়নি।

আজ ২২ জানুয়ারী সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় ভবনের ছাদ সেন্টারিংয়ের কাজ চলছে ঢিমেতালে। এবং ইতিমধ্যে যে খোয়া ব্যবহার করেছে তার অবশিষ্টাংশে দেখা যায় প্রচুর ডাষ্ট মিশ্রিত। পাশেই স্কুলের মাঠে উম্মুক্ত অবস্থায় রড ফেলে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন যাবত এভাবে পড়ে থাকতে থাকতে কিছু রড জং ধরে কাজের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

কাজের সাইডে ঠিকাদার ইসমাইল হোসেন উপস্থিত ছিলেন তাকে খোয়া ঠিক আছে কিনা জিজ্ঞেস করলে জানান ঠিকই আছে পানি মারলে ডাষ্ট বেরিয়ে যাবে। বালুর মান নিম্নমানের কেন প্রশ্নের উত্তরে বলেন বালু চেঞ্জ করা হবে তাহলে এতোদিন এই নিম্নমানের বালু দিয়ে কেন কাজ করানো হলো বিষয়টি এড়িয়ে যান। এবং রড উম্মুক্ত অবস্থায় মাঠে কেন ফেলে রাখা হয়েছে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা কেন হয়নি প্রশ্নের উত্তরে আক্রমনাত্মক ভঙ্গিতে বলেন জীবনে কতোগুলো বিল্ডিং করেছেন এবং জং ধরা রড কি আমি বাড়ি নিয়ে যাব?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অত্র স্কুলের শিক্ষক জানান কাজ শুরু করার পর দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রেখেছিলেন। কাজ কেন ফেলে রাখা হয়েছে তারা ঠিকাদারকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছিলেন ফিলিং বালু নাই যেকারনে কাজ বন্ধ। তিনি আরো বলেন বালুর মান খুবই খারাপ এবিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম সাবদুল ঠিকাদারকে অভিযোগ করলে চেঞ্জ করার কথা বললেও এখনো পর্যন্ত ঐ বালু দিয়ে কাজ করছেন। এবং তিনি জানান কিছু রড জং ধরে কাজের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কুমারখালী খোকসার দায়িত্বরত সাব এ্যাসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ার শাহিনুর রহমান শাহিনের নিকট মুঠোফোনে খোয়া, বালি এবং রড সমন্ধে তিনি কিছু জানেন কিনা জিজ্ঞাসা করলে বলেন তিনি তার উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে অবগত করেছেন। এবং সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের এ্যাসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ার সাহেব আলীকে ভবন নির্মাণ কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন কিনা জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান জং ধরা রড দিয়ে এবং নিম্নমানের বালু দিয়ে কাজ করতে দেয়া হবেনা।

Loading...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here