গভীর রাতে শীতার্ত রিকশা চালকদের মাঝে উষ্ণতা ছড়ানোর ভিন্নরকম চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মৌসুমের শুরুতে শীত তেমন অনুভূত না হলেও গত কয়েকদিনের মৃদু শৈত্যপ্রবাহে শীত বেড়েছে প্রচন্ড হারে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন ছিন্নমূল লোকজন। তীব্র শীতে রাস্তার পাশে, ফুটপাত ও বিভিন্ন খোলা স্থানে আশ্রয় নেওয়া ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন সামজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন যার যার মত করে সেই সকল শীতার্ত মানুষদের মাঝে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে রাজধানী ঢাকার মিরপুর এলাকায় ৫০জন রিসকাচালদের মাঝে কানটুপি বিতরণ করেন মানবাধিকার কর্মী ও তরুন লেখক জাহিদ হাসান রাতুল।

গভীর রাতে রাস্তার পাশে ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা অসহায় ছিন্নমূল মানুষগুলোর মাঝে সবাই যখন কম্বল বিতরণ করেন, রাতুলের ভিন্নরমক আয়োজনের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন,

গত ২ বছর থেকে শীতের সময় আমি সামর্থ্যনুযায়ী চেষ্টা করি কিছু অসহায় শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবারও চিন্তা ভাবনা করে রেখেছিলাম কিছু একটা করবো তাই গতমাসে ২টা ইভেন্টের কাজে আমার লাভের অংশটুকু রেখে দিয়েছি শীত বস্ত্র দিব বলে।
৫-৬দিন আগে প্রচন্ড শীতে মোহাম্মদপুর থেকে শ্যামলী আসতেছি রিসকা করে তখন দেখলাম রিসকাচালক মামা শীতে খুব কাঁপছেন যদিও তার পড়নে ভারী জ্যাকেট ছিল।

আমি তখন রিসকাটা থামাতে বলি এবং জিজ্ঞেস করি আপনার কী খুব শীত লাগছে, কেন লাগছে? তখন তিনি উত্তরের বললেন মামা কান দিয়ে বাতাস ঢুকতেছে পুরো শরীর কাঁপিয়ে তুলে। আমি বললাম যে কানটুপি গুলো একটা কিনে নিলেই তো হয় ৬০-৭০ টাকা দাম হবে। তিনি বললেন মামা সারাদিন যা রোজগার করি তা দিয়ে কোনরকম সংসার চালিয়ে নেই এর মধ্য থেকে ৬০-৭০ টাকা কমানোর মত তওফিক নাই তো, এই জ্যাকেট’টি ২বছর আগে একজন স্যার দিয়েছিল। উঁনার এই কথাটি শুনার পরে আমার মনে হল আমাদের সমাজে অনেক অসহায় মানুষ আছে যাদের সবার জীবনের গল্প একেকরকম, তাছাড়া মোটামুটি আমরা সবাই সবসময় শীত আসলে রাস্তায়, ফুটপাতে শুয়ে থাকা শীতার্ত মানুষদের মাঝে উষ্ণতা ছড়িয়ে দিতে কম্বল বিতরণ করে থাকি আমি না হয় এবার আমার অল্প সামর্থ্য থেকে একটু ভিন্নরমক চেষ্টা করি।

সবশেষে এতটুকুই বলতে চাই,
আমি মনে করি দান করা যেমন মহৎ কাজ, তেমনি নিজের সাহায্যে যদি অন্যের অপূর্ণতা কিছুটা পূরণ হয় সেই সুখ পৃথিবীর মহাসুখ। তাই আসুন আমরা সামর্থ্যনুযার্য়ী নিজে দান করি ও অন্যকে উৎসাহিত করি। জীবনের সৌন্দর্য উপভোগ করি অয়হায় মানুষের সাথে।

Loading...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here